রবি. অক্টো ২০, ২০১৯

এ যেন বাড়ির পাশেই সমুদ্রসৈকত

বালা ডেস্কঃ মৈনট ঘাট থেকে দূরে তাকালে সমুদ্রের বেলাভূমির খানিকটা আভাস মেলে। দিগন্ত ছুঁয়ে থাকা পদ্মার উত্তাল ঢেউয়ের মাথায় দুলতে থাকা নৌকা, প্রায় ডুবুডুবু স্পিডবোটের ছুটে চলা, পাড়ে সারিবদ্ধ বাহারি রঙের ছাতার তলায় পেতে রাখা হেলান-চেয়ার। ঘাটের কাছাকাছি দুই পাশে সাইনবোর্ডে ঘাটের পরিচিতি ‘মিনি কক্সবাজার’।

ঢাকার দোহার উপজেলার পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদীর কোলে মৈনট ঘাট। দোহার থেকে দূরত্ব প্রায় আট কিলোমিটার। নদীর অপর পাড়ে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন। পদ্মা ভাঙতে ভাঙতে দোহারের প্রান্তে এখন চরমোহাম্মদপুরে এসে ঠেকেছে। এখানেই ঘাট। ঢাকার গুলিস্তান থেকে সরাসরি পাকা সড়ক চলে এসেছে ঘাট পর্যন্ত। এই রুটে বাস সার্ভিসও চালু আছে বহুদিন থেকে। এখন জনপ্রতি ভাড়া ৯০ টাকা। ঢাকা থেকে বাসে আসতে সময় লাগে ঘণ্টা তিনেক। আসলে সময় নির্ভর করে পথের যানজটের ওপর।

মৈনট ঘাটের এই হঠাৎ খ্যাতি ঘাটের দক্ষিণ পাশের চরটির জন্য।

মৈনট ঘাটের বয়স কত, তা কেউ সঠিক বলতে পারে না। তবে মিনি কক্সবাজার হিসেবে তার এই নয়া পরিচিতি বছর দুই হলো।

দ্রুত খ্যাতি লাভ করার প্রতিক্রিয়া ভালো-মন্দ উভয়ই প্রকারেরই। সমুদ্রসৈকত ভেবে গোসল করতে নেমে গত দেড় বছরে এখানে নয়জন প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোর ধরনে বাড়ির কাছেই সমুদ্রসৈকতের আবহ উপভোগ করতে প্রচুর লোকসমাগম হচ্ছে এখানে। গড়ে উঠেছে বেশ কিছু খাবার হোটেল। শুকনো মরিচ সহযোগে ডুবো তেলে ইলিশ ভাজার সৌরভ ছড়িয়ে পড়ছে পদ্মার বুক ছুঁয়ে ধেয়ে আসা ঘাটপাড়ের ভেজা হাওয়ায়।

লোকসমাগম বাড়তে থাকায় বেশ কিছু নতুন হোটেল হয়েছে। নদীতে বেড়াতে যাওয়ার জন্য ছাউনি দেওয়া নৌকা এসেছে ডজনখানেক। নৌকায় বেশ ভালোই আয় হচ্ছে। ঘণ্টাপ্রতি নৌকা ভাড়া ৫০০-৬০০ টাকা। শতকরা ৪০ টাকা টোল দিতে হয় বলে ভাড়া বেশি। এ কারণে ঘাট পার হতে যাত্রীভাড়াও বেশি। স্পিডবোটে ১৬০ টাকা ভাড়ার টোল ১০০ টাকা, ট্রলারে ৮০ টাকা ভাড়ার টোল ৫০ টাকা।

প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা হবে চরটি। অনেকে হাঁটাহাঁটি করছেন, কেউবা হাত বাড়িয়ে ছুঁয়ে দেখছেন পদ্মা। সাহস করে নেমেও পড়ছেন কেউ কেউ।

অনেকের ধারণা, কক্সবাজারের মতো জায়গাটি ক্রমশ ঢালু হয়ে নেমে যাবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এটি নদী, সমুদ্র নয়। এখানে পাড় একেবারে খাড়া। সে কারণে নামলেই গভীরে পড়তে হয়। দক্ষ সাঁতারু না হলে সেখান থেকে ওঠা মুশকিল। নিরাপত্তার জন্য দোহার নৌ-পুলিশ ফাঁড়ি থেকে সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত পাহারার ব্যবস্থা রয়েছে।

পদ্মার পাড়ে এসে ইলিশের স্বাদ না নিয়ে ফিরলে মনে যেন আক্ষেপ না হয়, সেই ব্যবস্থা করে রেখেছেন হোটেলওয়ালারা। আস্ত ইলিশ ভাজা থেকে শুরু করে ইলিশ ভর্তা পর্যন্ত ইলিশেরই হরেক রকম পদ পাওয়া যাবে হোটেলগুলোতে। ইলিশ ছাড়া নদীর অন্য মাছ, খাসি-মুরগির তেল-ঝালের তরকারির সঙ্গে বিনা মূল্যের ডাল। পদ্মা রোজ নিউ খাবার হোটেলের মালিক জুলহাস ভূঁইয়া জানালেন, তিনি ২০০০ সাল থেকে এখানে হোটেল ব্যবসা করছেন। তাঁর হোটেলটিসহ আগে এখানে মোটে তিনটি হোটেল ছিল। লোকজনের যাতায়াত কম ছিল। এখন লোকসমাগম বাড়ায় হোটেল হয়েছে ১০টি। এ ছাড়া আছে অনেকগুলো চায়ের দোকান। বিকেলে নদীর চরে ফুচকা চটপটিওয়ালারা যায়। সব মিলিয়ে বেশ জমজমাট পরিবেশ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *