শুক্র. জুলা ৩, ২০২০

চলমান প্রকল্পগুলোর কাজের গতি ধরে রাখতে হবেঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

বালা-নিউজঃ  উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন করা মূল লক্ষ্য। চলমান প্রকল্পগুলোর কাজের গতি ধরে রাখতে হবে। অবশ্যই কাজের মান নিশ্চিত করতে হবে। আজ মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) সকালে নতুন সরকারের প্রথম একনেক (জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি) বৈঠকে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এর আগে সকাল ১০টায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শুরুতে উপস্থিত মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। অর্জিত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে হবে এবং আরো বাড়াতে হবে। আর এজন্য প্রকল্প বাছাই ও বাস্তবায়নে যত্নবান হতে হবে। এভাবেই উন্নয়নের পথে যাবো।

শেখ হাসিনা বলেন, জনগণ ভোটের মাধ্যমে যে আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, তার মর্যাদা ধরে রাখতে হবে।  একবারে গ্রামের তৃণমূলের প্রতিটি মানুষের জীবনমান ও ভাগ্য যেন উন্নত হয়, তারা উন্নয়নের সুফল পায়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

দেশকে এগিয়ে নিতে সবার সহযোগিতা চেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সবাই মিলে কাজ করে সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলবো। এজন্য সবার সহযোগিতা চাই। আমরা উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এখন উন্নত দেশের কাতারে যেতে হবে।

নতুন সরকার গঠনের পর আগামী পাঁচ বছরের জন্য নতুন সরকারে একনেক পুনর্গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একনেকের চেয়ারম্যান। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল একনেকের বিকল্প চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। ১৪ সদস্যের একনেকের অন্য সদস্যরা হলেন— সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, কৃষিমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক, তথ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ, স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম, শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি, পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান, বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ হুমায়ুন মাহমুদ, স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী শ. ম. রেজাউল করিম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এবং ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজকের বৈঠকে অনুমোদনের জন্য ৯টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হতে পারে। প্রকল্পগুলো হচ্ছে-প্রত্যেক জেলা/উপজেলায় অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ, নেত্রকোনা জেলার চল্লিশা (বাগড়া)-কুনিয়া-মেদনী-রাজুরবাজার সংযোগ মহাসড়ক নির্মাণ, যাত্রাবাড়ী (মেয়র হানিফ ফ্লাইওভার)-ডেমরা (সুলতানা কামাল সেতু) মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, গোবিন্দগঞ্জ-ছাতক-দোয়ারাবাজার সড়কে বিদ্যমান ৯টি সরু ও জরাজীর্ণ সেতুর স্থলে ৯টি আরসিসি/পিসি গার্ডার সেতু নির্মাণ, বিদ্যমান সাতটি টেক্সটাইল ভকেশনাল ইনস্টিটিউটের উন্নয়ন ও নতুন ছয়টি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের জাদুঘর ভবন সম্প্রসারণ ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্প ও শক্তি বিভাগের আওতায় গোপালগঞ্জ বিসিক শিল্পনগরী সম্প্রসারণ (তৃতীয় সংশোধিত), কৃষি-পানিসম্পদ ও পল্লি প্রতিষ্ঠান বিভাগের আওতায় পিপিআর রোগ নির্মূল ও ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণ এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ উচ্চমূল্যের অপ্রধান শস্য উৎপাদন ও অন্যান্য ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *