বুধ. জুলা ৮, ২০২০

প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড হচ্ছে

bangladershlighlight-primari

বালা নিউজ : প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা বোর্ড নামে দুটি পৃথক শিক্ষা বোর্ড গঠন করতে যাচ্ছে সরকার। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মাধ্যমে এই স্তরের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অধিদফতর ও পরিদফতরের কাজ নিয়ন্ত্রণ, পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করা। তাই প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং পাঠ্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে।

২০০৯ সাল থেকে সারাদেশে পঞ্চম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা শুরু হয়। পরের বছর মাদরাসার শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকে কিছু শিক্ষার্থীকে বৃত্তির আওতায় না এনে সবাইকে বৃত্তির জন্য তৈরি করা, মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা, ঝরে পড়া রোধ, শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন ধরে রাখতে সমাপনী পরীক্ষা কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সরকার দাবি করে। সমাপনী পরীক্ষার নামে শিশু শিক্ষার্থীদের ওপর পরীক্ষার বাড়তি চাপ এবং কোচিং বাণিজ্যের প্রসারে এই পরীক্ষা বাতিলের দাবি ওঠে। জাতীয় শিক্ষানীতির আলোকে প্রাথমিক শিক্ষা হবে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত। গত কয়েক বছর ধরে অব্যাহত দাবি ও সমালোচনার পরও এ পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। গত এক দশক ধরে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়ে আসছে।

আগামীতে প্রাথমিক শিক্ষা অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সম্প্রসারিত হলেও এ ধরনের একটি সমাপনী পরীক্ষা চালু থাকবে। তখন অষ্টম শ্রেণিতে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তখন পঞ্চম শ্রেণির পরীক্ষাটি বাতিল হতে পারে। অষ্টম শ্রেণিতে এখন চালু থাকা জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা আর থাকবে না। প্রস্তাবিত প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার স্তর বিন্যাসের ফলে মাধ্যমিক স্তরের বর্তমানে আটটি সাধারণ ও একটি মাদরাসা এবং একটি কারিগরি শিক্ষা বোর্ড রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, প্রাথমিক এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি দিন দিন বাড়ছে। অধিদফতরের মাধ্যমে এ পর্যায়ের শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং পাঠ্যক্রম পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। প্রশানসিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দায়িত্ব হচ্ছে অধিদফতরের। পরীক্ষা পরিচালনা ও সনদ বিতরণ তাদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর এবং উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোকে পৃথক শিক্ষা বোর্ড গঠনের জন্য প্রস্তাব পাঠানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও প্রাথমিক শিক্ষা বোর্ড গঠনের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

প্রাথমিকের সচিব মো. আকরাম আল হোসেন বলেন, বর্তমানে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার ধরন ও কৌশল পাল্টেছে। এখন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষায় শুধু বয়স্কদের নাম স্বাক্ষর শিক্ষা দেয়া হয় না। তাদের জীবনমুখী শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। তারা যাতে কর্মজীবনে কিছু না কিছু করে জীবন ধারণের উপযোগী হতে পারেন, সে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে। তাই তাদেরও যোগ্যতাভিত্তিক সনদ দেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *