মঙ্গল. অক্টো ২২, ২০১৯

বাবরি মসজিদ মামলা: মধ্যস্থতার আহ্বানে সাড়া দিল না মসজিদ পক্ষ

ভারতের অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের নিযুক্ত মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বসবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে মসজিদ পক্ষ।

এর আগে হিন্দু সংগঠন  রামলালা বিরাজমান একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। অযোধ্যায় বিতর্কিত জমির মালিকানা বা দখলদারির স্বত্ব কার এই প্রশ্নে এবার একই পথে হাঁটল মুসলিম প্রতিনিধিরাও।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, দিল্লিতে ৮ অক্টোবর একটি বৈঠকে অংশ গ্রহণের জন্য ২ অক্টোবর মসজিদ পক্ষের আইনজীবী এজাজ মকবুলকে চিঠি পাঠায় মধ্যস্থতাকারী কমিটি। এরপরই মসজিদ পক্ষ জানিয়ে দেয়, তারা আদালতের কার্যক্রম নিয়ে ‘ব্যস্ত’ রয়েছেন।

এর আগে ৩০ সেপ্টেম্বর রামলালা বিরাজমানের আইনজীবী সি এস বৈদ্যনাথন আদালতকেও একই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন।

মসজিদ পক্ষ জানতে চায়, ৮ অক্টোবরের বৈঠকটি কে আহ্বান। তারা মধ্যস্থকারীদের কাছে আরও জানতে চায় যে, চলতি বছরের মার্চ মাসে মসজিদ ও মন্দিরের সহাবস্থানের বিষয়ে যে প্রস্তাব তারা দিয়েছিল, সে বিষয়ে অন্য পক্ষ থেকে কোনও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কীনা।

এদিকে মন্দির পক্ষ মুসলিমদের এই প্রস্তাবে রাজি হয়নি এবং তারা এ বিষয়ে কোনো প্রস্তাবও পেশ করেনি। আর এর ফলেই মধ্যস্থতার প্রক্রিয়া ‘ব্যর্থ’ প্রতিপন্ন হয়। আইনজীবীরাও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং মধ্যস্থতাকারীদেরও সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি।

প্রসঙ্গত, মাদ্রাজ হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এফ এম আই খলিফুল্লাহ, আর্ট অব লিভিং খ্যাত শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর এবং প্রবীণ আইনজীবী শ্রীরাম পাঁচুকে নিয়ে গঠিত মধ্যস্থতাকারী প্যানেলকে চিঠি লেখেন সুন্নি ওয়াক্ফ বোর্ডের জুফার ফারুকি এবং নির্মোহী আখড়ার ধর্ম দাস। তারা বলেন, প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করুন। এরপরই প্যানেল ফের প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।

এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ বিচার প্রক্রিয়ার পাশাপাশি মধ্যস্থতা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি আরও বলেন, ১৮ অক্টোবরের মধ্যে যাবতীয় সওয়াল শেষ করতে হবে।

সুপ্রিম নির্দেশে চলতি বছরের ৮ মার্চ এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরপর ৭ মে মধ্যস্থতাকারীরা একটি রিপোর্ট জমা দিয়ে জানান, তারা ‘এগোচ্ছেন’। প্রাথমিকভাবে মধ্যস্থতা শেষ করার জন্য ১৫ আগস্টকে চূড়ান্ত দিন ধার্য করা হলেও, ১১ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট তা বাড়িয়ে ২৯ জুলাই করে দেয়। এই সময়কালের মধ্যে যাবতীয় আলোচনা সেরে ফেলার নির্দেশও দেওয়া হয়। আর এর মধ্যেই মধ্যস্থতা ‘ব্যর্থ’ হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *