বুধ. জুলা ৮, ২০২০

৩৭০ রদ নিয়ে চিন, আমেরিকাকে জানাল ভারত, সম্ভাব্য সব রকম পদক্ষেপের হুমকি দিল পাকিস্তান

৩৭০ ধারা প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন এবং আমেরিকাকে জানাল ভারত। অন্য দিকে, মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা করে পাকিস্তান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ভারত সরকারের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সবরকম পদক্ষেপ তারা করবে। এ ব্যাপারে আইনি রাস্তার পথে হাঁটতে চলেছে তারা।

সোমবার পাক বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এক বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে ভারত যে পদক্ষেপটা করল, তা রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নিয়মের পরিপন্থী। একক ভাবে ভারত কাশ্মীরের মর্যাদা বদলাতে পারে না। তাদের এই  সিদ্ধান্তকে মেনে নেবে না জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ এবং পাকিস্তান।

ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে একটা আন্তর্জাতিক বিতর্ক রয়েছে। পাকিস্তান যে হেতু এই বিতর্কের একটা অংশ, এই প্রক্রিয়া ঠেকাতে যা যা আইনি পদক্ষেপের প্রয়োজন তারা তাই-ই করবে। মঙ্গলবার বিষয়টি নিয়ে পাক সংসদের যৌথ অধিবেশনে আলোচনার সিদ্ধান্তও নিয়েছে পাকিস্তান।

জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে নানা বিষয়ে বার বারই নাক গলানোর চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। শুধু তাই নয়, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তান সম্পর্কে যখনই আন্তর্জাতিক মহলে বলতে গিয়েছে ভারত, প্রতিবারই কাশ্মীর প্রসঙ্গ তুলে পাল্টা ভারতকে কোণঠাসা করার চেষ্টা করেছে পাকিস্তান। ‘আমরা কাশ্মীরবাসীদের পাশে রয়েছি’— এমন বার্তা দিতেও শোনা গিয়েছে পাকিস্তানকে। ৩৭০ ধারা নিয়ে ভারত সরকারকে আক্রমণ করে কাশ্মীরবাসীদের উদ্দেশে এ দিন ফের একই বার্তা দিল পাকিস্তান। পাক বিদেশ মন্ত্রক সূত্রে জানিয়ে দেওয়া হল, “কাশ্মীরের রাজনৈতিক, কূটনৈতিক এবং নৈতিক বিকাশের জন্য আমরা লড়াই চালিয়ে যাব।”

পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)-এর চেয়ারম্যান তথা বিরোধী নেতা শাহবাজ শরিফ বলেন, “মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্ত রাষ্ট্রপুঞ্জ-বিরোধী। এটা আসাংবিধানিক। এক প্রকার দেশদ্রোহ। যা কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” অন্য দিকে, পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারির ছেলে বিলাবল ভুট্টোও মোদী সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “ভারত সরকার কী চাইছে, ৩৭০ ধারার বিলুপ্তি ঘটিয়ে তা স্পষ্ট করে দিয়েছে।”

সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাসভবনে কাশ্মীর নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক হয়। এই বৈঠককে ঘিরে এ দিন সকাল থেকেই জল্পনা ছিল তুঙ্গে। কী সিদ্ধান্ত হতে চলেছে বৈঠকে সে দিকে তাকিয়ে ছিল গোটা দেশ। অবশেষে সেই জল্পনার অবসান হল রাজ্যসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিবৃতির পর। বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়া হল জম্মু-কাশ্মীরের। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে  জম্মু-কাশ্মীরকে পুনর্গঠিত করে দু’টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করা হল। একটি জম্মু কাশ্মীর  অন্যটি লাদাখ। বিষয়টি নিয়ে উত্তাল হয় সংসদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *